RSS

খেজুর গুড়ের সন্দেশ

24 Nov

আমার পড়া শ্রেষ্ঠ দাম্পত্য সম্পর্কের গল্প।

মূল গল্পটির নাম ‘খেজুর গুড়ের সন্দেশ’ । লেখক সুরসিক খ্যাতনামা সাহিত্যিক প্রয়াত তারাপদ রায়।

মহীতোষবাবু বিবাহোত্তর বাকী জীবন সব বাঙালি পুরুষের মতনই স্ত্রীর ভয়ে সন্ত্রস্ত ছিলেন । টিপে টিপে , মেপে মেপে চলতেন । কীসে কী দোষ হয় গাফিলতি হয় কিছুই অনুমান করতে না পেরে দুরুদুরু বক্ষে সদাসর্বদা স্ত্রীর হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতেন।

যা হোক এই মহীতোষ বাবু এখন মৃত্যুশয্যায়। ডাক্তার পরীক্ষা নীরিক্ষা করে গম্ভীর মুখে চলে গেছেন – এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
আশ্চর্য ব্যাপার হল এই যে তাঁর জ্ঞান, বুদ্দি সব টনটনে আছে উপরন্তু ঘ্রাণশক্তিটা মনে হয় বেড়ে গেছে ।
এরপর তারাপদ বাবুর সুরসিক ভাষায় ” এমন সময়ে অন্য একটি সুঘ্রাণ এসে তাঁকে চনমনে করে তুলল। খেজুরে গুড়ের পাকের গন্ধ।দুয়েকবার শুঁকে তিনি তাঁর মাথার কাছে দাঁড়ানো মেয়ে অনুকণাকে বললেন, ‘রান্নাঘরে তোর মা বোধ হয় খেজুরে গুড়ের সন্দেশ বানাচ্ছে ?’ অনু বলল, ‘ হ্যাঁ ঠিকই তাই।’
মৃত্যুমুখী মহীতোষবাবু কেমন প্রলুব্ধ হয়ে পড়লেন, মেয়েকে বললেন, ‘দ্যাখ তোর মা তো সারাজীবন আমাকে ভাল-মন্দ কিছুই খেতে দেয়নি। আজ যা তো, রান্নাঘর থেকে দুটো সন্দেশ নিয়ে আয়, মরার আগে খেয়ে যাই।’
মেয়ে মাকে ভালই চেনে। একটু দোনামনা করে সে রান্নাঘরে গেল এবং সঙ্গে সঙ্গে মুখ কালো করে ফিরে এল।
মহীতোষবাবু মেয়েকে বললেন, কীরে, সন্দেশ কী হল ?’

মেয়ে বলল, ‘ মা দিল না। ও সন্দেশগুলো শ্মশানবন্ধুদের জন্য বনানো হচ্ছে। তুমি মারা যাওয়ার পরে তোমাকে পুড়িয়ে ফিরে সে তারা ওই সন্দেশগুলো খাবে । ওর একটাও তোমার জন্য নয়।
(A short story by wellknown Bengali writer late Tarapada Roy is shared herewith.)

 
Leave a comment

Posted by on 24/11/2018 in story

 

Tags: , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

 
%d bloggers like this: